থোকায় থোকায় ঝুলছে গাঢ় খয়েরি ও লালচে পাতা আর লাল রঙের ফল। ফলে ভরা এই গাছটি হচ্ছে ‘রুবি লংগান’। খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে বিভাগীয় বৃক্ষমেলায় দেশি-বিদেশি নানারকম ফলের ভিড়ে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে বিশেষ এই গাছটি। মেলায় আগত বৃক্ষপ্রেমীরা স্টলঘুরে ঘুরে দেখছে আর রুবি লংগানের গাছের চারার সামনে এসে ছবি তুলছেন। এবারের মেলার করিম নার্সারীতে দেখা মিলেছে বিদেশি এই সুস্বাদু ফল গাছটির।
থাইল্যান্ডের এই রাজকীয় ফলটি আমাদের দেশে লাল আঁশফল বা লাল কাঠলিচু নামে পরিচিত। সাধারণ লংগান বা আঁশফলের চামড়া এবং গাছের পাতা সবুজ-বাদামি রঙের হলেও, রুবি লংগানের প্রধান আকর্ষণ হলো এর পাতা, ডাল এবং ফলের খোসা-সবই আকর্ষণীয় লালচে রঙের হয়। এটি শুধু দেখতেই সুন্দর নয়, খেতেও অত্যন্ত মিষ্টি ও রসালো। সাধারণ আঁশফলের চেয়ে এর ভেতরের শাঁস বেশ পুরু এবং সুগন্ধযুক্ত।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, ছাদবাগানীদের কাছে এই চারার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। নার্সারি মালিকরা জানান, রুবি লংগান অত্যন্ত শক্তপোক্ত জাতের গাছ হওয়ায় ড্রাম বা টবে খুব সহজেই ছাদবাগানে এটি চাষ করা যায়। কলমের চারা হওয়ায় রোপণের ১ থেকে ২ বছরের মধ্যেই গাছে প্রচুর ফলন আসে। মেলায় ফলসহ নান্দনিক এই গাছটি দেখতে ভিড় জমানোর পাশাপাশি অনেকেই শখের বশে সংগ্রহ করছেন রুবি লংগানের চারা।
খুলনা বৃক্ষমেলার আব্দুল করিম নার্সারীর স্টলের সাকিব বলেন, রুবি লংগান লিচুর মতো দেখতে, এটি একটি বিদেশি ফল। তবে এটি আকারে লিচুর চেয়ে বড়। এর খোসা লিচুর তুলনায় আরও পাতলা, শাস বেশি এবং বিচি ছোট হওয়ায় খেতেও বেশ সুস্বাদু। বড় আকারের একটি গাছের দাম ৮ হাজার টাকা। আর ছোট চারা ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হয়।
তিনি বলেন, আমি প্রথমে বাগানের একটি গাছের বিচি থেকে চারা তৈরি করি। এবার বড় ও ছোট মিলিয়ে মোট ১৫টি রুবি লংগানের গাছ এবারের মেলায় নিয়ে এসেছি। এটি দ্বিতীয়বারের মতো মেলায় এনেছি। নতুন ও আকর্ষণীয় এই ফলের গাছটি দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে। অনেকেই গাছের ফল হাতে নিয়ে দেখছেন এবং ছবি তুলছেন।
সাবিক বলেন, রুবি লংগান ছাড়াও আমাদের স্টলে আরও বিভিন্ন বিদেশি ফলের গাছ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পার্সিমন, আমন্ড, থাই সফেদা, পেরা-কাটা মাল্টাসহ নানা ধরনের বিদেশি ফলের গাছ।
বনবিভাগের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে থাকা মো. জাকির হোসেন জানান, মেলায় বৃক্ষপ্রেমীদের আনাগোনা বাড়ছে। বেচা-কেনাও বেড়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেলার চতুর্থ দিনে ফলজ, বনজ, ওষুধি, শোভা, ফুলসহ অন্যান্য ২ হাজার ২২৫টি চারা বিক্রি হয়েছে, যার মূল্য ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৫০ টাকা। গেল চারদিনে সবমিলিয়ে ৭ লাখ ২১ হাজার ৫৭০ টাকা মূল্যের ৪ হাজার ৭০৭টি চারা বিক্রি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুলাই খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে জেলা প্রশাসন ও সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে বৃক্ষমেলা শুরু হয়েছে। মাসব্যাপী এই মেলা চলবে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সকলের জন্য উন্মুক্ত।
খুলনা গেজেট/এএজে

